![]()


সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান ও ড্রিমস অ্যান্ড হোপ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন সিলেট-এর উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং দাওয়াহ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে ইমামদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক কল্যাণে এগিয়ে এলে সমাজ উপকৃত হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
সোমবার রাতে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলে ড্রিমস অ্যান্ড হোপ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন সিলেটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ ইমামস’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন এলাকার নির্বাচিত অর্ধশতাধিক ইমাম অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবকল্যাণে ইমামদের আরও সক্রিয় ভূমিকা, পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের চেয়ারম্যান ও ফিলিপাইনস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল জামেয়া দ্বীনিয়া আলিম মাদরাসা জামে মসজিদ, জগন্নাথপুরের খতিব মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার এবং জালালাবাদ ইমাম ফাউন্ডেশন সিলেটের সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান।
সংগঠনের সেক্রেটারি আশরাফুল ওয়াদুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল রেজাউল করিম ও সংগঠনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর শামছুর রহমান জাবাল। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা জাকারিয়া মাহমুদ।
সভায় ‘কমিউনিটি লিডারশিপ, দাওয়াহ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. আনোয়ারুল ওয়াদুদ।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন ইমাম শুধু মসজিদে নামাজ পরিচালনাকারী নন; তিনি সমাজের নৈতিক পথপ্রদর্শক, শিক্ষক ও সামাজিক নেতা। মানুষের মধ্যে ঈমান, নৈতিকতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে ইমামদের ভূমিকা অনন্য। তিনি তরুণ প্রজন্মকে ভালোবাসা, প্রজ্ঞা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মসজিদকে জ্ঞানচর্চা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ও ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার মানবকল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং অংশগ্রহণকারী ইমামদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক অশান্তির মতো সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় ইমামরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সমাজের মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিয়ে একটি সুন্দর ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী ইমামদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। – বিজ্ঞপ্তি